সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Musafir.jpg

দারুণ সিনেমা এ্যাকশন এ ভরপুর সিনেমা; মুসাফির

পুরো সিনেমায় এরকম কোন দৃশ্য নাই যা আপনার পরিবারকে নিয়ে দেখতে গেলে লজ্জায় পরতে হবে। বাংলা সিনেমার উন্নয়নে আপনিও শামিল হতে চাইলে, মুসাফির এর মত বাংলা সিনেমা দেখুন। তাহলে নির্মাতারাও ভালো ভালো ছবি নির্মাণে উৎসাহিত হবেন।

বাংলাদেশের যে কজন নির্মাতা বাংলা সিনেমাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান, তাদের মাঝে অন্যতম হল কিস্তিমাত খ্যাত নির্মাতা আশিকুর রহমান। নিজের প্রথম ও দ্বিতীয় সিনেমাতেই তিনি এক নতুন রকমের নির্মাণ কৌশলী উপহার দিয়েছিলেন বাংলা ছবির দর্শকদের। আগের দুটি সিনেমাই হিট ছিল।   

তার তৃতীয় ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা মুসাফির। যা গত শুক্রবার সারাদেশের ৮১টি হলে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক ছিল। তাই মুক্তির দ্বিতীয় দিনই সিনেমা হলে বসে দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।    

গল্পটা যেমনঃ  সিনেমার গল্পে দেখা যায় এজেন্ট চরিত্রে 
রূপদান কারী মিশা সওদাগর সানি চরিত্রে রূপদান করা সানীকে ভাড়া করে জারা মেহজাবিন (মানে ছবির নায়িকা মারজান জেনিফা) কে খুঁজে বের করে এজেন্ট এর কাছে তুলে দিতে। সানী জারা মেহজাবিন কে খুঁজতে লেগে যায়।

খুঁজার শুরুতেই একটা চমৎকার মারামারির দৃশ্য চোখে পরে। সানী জারা মেহজাবিনকে খুঁজে পায় ও কিডন্যাপ করে নিয়ে আসে। জারা মেহজাবিন কে এজেন্ট এর হাতে তুলে দেয়ার জন্য যখন সে বের হয় তখন টাইগার রবি ও তার গুন্ডারা জারা মেহজাবিন কে তুলে নিতে আসে। এবং সানী ও টাইগার রবির এ্যাকশন এর মাঝে পুলিশ এসে ইতি ঘটায়।

টাইগার রবি জারা মেহজাবিন কে তুলে নিতে ব্যর্থ হয়। সানীর মনে সন্দেহ হয় যে এত গুলো লোক কেন জারা মেহজাবিন কে মারতে চাইবে। তখন জারা মেহজাবিন সানীকে জানায় যে জারা মেহজাবিন একজন প্লাস্টিক সার্জন ছিল। সে টাইগার রবির ভাই এর চেহারার অপারেশন করেছিল।

টাইগার রবির ভাই একজন বড় খুনি ছিল, যার ফাঁসির রায় হয়েছিল। জারা মেহজাবিন এই রহস্য জেনে যায়, তাই তাকে খুনের জন্য টাইগার রবি তাকে খুঁজছিল। এর মাঝে জারা মেহজাবিন কে তুলে নিতে ব্যর্থ হয়ে টাইগার রবি ও তার ভাই শহরের বড় বড় তিনজন খুনিকে ভাড়া করে।

সানী ও জারা মেহজাবিন মারিয়াকে খুঁজতে বের হয় সিলেটের পথে। মারিয়া সেই মেয়ে যার জন্য সানী দশ বছর বিনা দোষে জেল খেটেছিল, এবং এর পিছনেও টাইগার রবির হাত ছিল। ইতিমধ্যে ভাড়া করা তিনজন খুনিই সানী ও জারা মেহজাবিন কে আক্রমণ করে এক এক করে এবং সবসময়ের মত নায়ক নায়িকা বেঁচে যায়।

সানী ও জারা মেহজাবিন এর মাঝে প্রেম হয়ে যায় যথারীতি। গল্পের শেষের দিকে সানী তার কথা মত সব প্রমান ও টাইগার রবিকে এজেন্ট এর হাতে তুলে দেই। কিন্তু দেখা যায় এজেন্টই টাইগার রবির টাকার কাছে বিক্রয় হয়ে গেছে। ওইদিকে টাইগার রবির ভাই আরও বেশী টাকা দিয়ে এজেন্টকে কিনে নেয় ও নিজের ভাইকে হত্যা করে দেশ ছেঁড়ে পালাতে চায়। যথারীতি শেষের মারপিট এবং নায়কের জয়। এভাবেই ছবির শেষ হয়।

যা ভালো লাগলোঃ 

  • পুরো ছবিতে এরকম কোন দৃশ্য নাই যা আপনার পরিবারকে নিয়ে দেখতে গেলে লজ্জায় পরতে হবে।
  • মারপিটের দৃশ্য গুলো চোখ ধাঁধানো, যা বাংলা ছবিতে কি, বলিউডেও দেখা যায়না।
  • কমেডি পার্টটা এ্যাকশনের থেকেও ভালো লাগছে। বিশেষ করে বান্টি নামের ক্যারেক্টারটা তো জাস্ট গ্রেট। শুধু আমি না পুরা হল পছন্দ করছে এই চরিত্রটাকে। সবাই হেসে গড়িয়ে পরেছে তার ডায়ালগ শুনে।
  • ছবিটি টান টান উত্তেজনায় ভরপুর ছিল। কাহিনী অবশ্যই গতিময়। প্রথম দশ মিনিটের পর থেকে শেষ দশ মিনিট পর্যন্ত বেশ কয়েক বার বেশ কিছু টুইস্ট এসে গল্পের মোড় বারবার ঘুরিয়ে দিয়েছে। ফলে টেনশন আর উত্তেজনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বহাল ছিল।
  • নায়ক নায়িকার খুনশুটি গুলো উপভোগ করছি।
  • গান গুলো চমৎকার ছিল। গানের দৃশ্যায়নও দারুন ছিল।
  • ডায়ালগ গুলো অনেক স্মার্ট ছিল।
  • কোন আইটেম গানের বাহার ছিল না।
  • মিশা সওদাগর এর অভিনয় ও সংলাপ বলা দুর্দান্ত।
  • শুভ অভিনয়, ফাইটিং, নাচ খুবই ভালো করেছেন।
  • ভিএফএক্স এর কাজ আগের দুটি সিনেমার তুলনায় কিছুটা ভালো করেছেন।
  • মারজান জেনিফাকে অনেক সুন্দর লেগেছে।
যা খারাপ লেগেছেঃ 

  • গল্পটা প্রচুর অসংগতিপূর্ণ ছিল।
  • নায়ক ২ টা গুলি বুকে খেয়েও সীমান্ত এলাকা থেকে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে কিভাবে ঢাকায় ব্যাক করে এবং বিন্দুমাত্র চিকিৎসা না নিয়ে ভিলেনের সাথে মারামারি করে?
  • নায়িকার অভিনয় ছিল ন্যাকামিপূর্ণ।
  • শিমুল খান, টাইগার রবি, সিন্ডি রোলিং এত সহজে মারা গেল, যা দৃষ্টিকটু লেগেছে।
  • প্রসূন আজাদ এর ডাবিং যাকে দিয়ে করানো হয়েছে, তা খুবই বিরক্ত লেগেছে শুনতে।
  • শেষের দিকে গল্প এত দ্রুত না টানলেও হত।
  • ছবির কিছু কিছু দৃশ্য মনে হয় কাঁটা হয়েছে, হয়ত অনেক লম্বা গল্প হয়ে গিয়েছিল তাই।
  • ছবি মুক্তির দ্বিতীয় দিনই সিনেমা হলের অনেক সিট ফাঁকা ছিল, যা খুবই খারাপ লেগেছে, কারণ নির্মাতারা দর্শকদের জন্যেই ভালো ছবি বানায়। 
পারসেপচুয়াল পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত ‘মুসাফির’র কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক আশিক নিজেই। ‘মুসাফির’ ছবিতে শুভ-জেনিফার ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, টাইগার রবি, শিমুল খান, সিন্ডি রোলিং, জাদু আজাদ, রেবেকা প্রমুখ।

মুসাফির ছবিটিকে আমি এ্যাকশন এর জন্য ১০/১০ দেব, নির্মাণ এর জন্য ৮.৫/১০, গানের জন্যে ৯/১০, সংলাপ এর জন্যে ৯/১০ বাকী সব মিলিয়ে ছবিটিকে আমি ৮.৫/১০ দেব। আশিকুর রহমানের কাছে দাবি থাকবে, এরকম আরও ভালো ভালো ছবি আমাদের উপহার দিন। 

বাংলা ছবির উন্নয়নে আপনিও শামিল হতে চাইলে, মুসাফির এর মত বাংলা ছবি দেখুন। তাহলে নির্মাতারাও ভালো ভালো ছবি নির্মাণে উৎসাহিত হবেন। 

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সিনেমাহল, গান, ভালো-ছবি, অ্যাকশন, মুসাফির, বাংলা-সিনেমা