সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

069027-black-paint-splatter-icon-alphanumeric-at-sign.png

অবাক তথ্য জেনে নিন @ প্রতীকটি সম্পর্কে অবাক করা কিছু তথ্য

এটা আবার এমন নয় যে প্রত্যেক দেশই প্রাণির নামের সাথে সম্পর্ক রেখে @ এর নাম বলে। এইযে দেখুন, বসনিয়ায় একে “পাগলাটে A” বললেও তুর্কিতে বলে “সুন্দর A” স্লোভাকিয়ায় বলে “আশ্চর্য মাছের রোল”।

ইন্টারনেট, ই-মেইল অথবা সামাজিক যোগাযোগের এই সময়ে @ (At the rate of) প্রতীকটি বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু কখনও কি আপনি জানতে চেষ্টা করেছেন এই @ প্রতীকটির ব্যবহার কখন থেকে চলছে? ইংরেজির মধ্যে এই প্রতীক কোথা থেকে এসেছে? আজ বহুল ব্যবহৃত এই @ এর কাহিনী জানার চেষ্টা করব।

বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকেরা এই @ কে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় বলে থাকেন। যেমন:

  • আর্মেনিয়ার ভাষায় বলে: শুয়ে থাকা কুকুর ছানা
  • চীন: বহু পেঁচওয়ালা
  • তাইওয়ান: ছোট ইঁদুর
  • ডেনিশ ভাষায়: হাতির শুড়
  • ইউরোপের কোন কোন দেশে: পোকা-মাকড় বা পোকা
  • মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে: চাঁদের কান
  • জার্মানি: স্পাইডার মাংকি অর্থাৎ মাকড়শার মত লেগে থাকা বানর
  • গ্রীস: ছোট হাঁস

এটা আবার এমন নয় যে প্রত্যেক দেশই প্রাণির নামের সাথে সম্পর্ক রেখে @ এর নাম বলে। এইযে দেখুন, বসনিয়ায় একে “পাগলাটে A” বললেও তুর্কিতে বলে “সুন্দর A” স্লোভাকিয়ায় বলে “আশ্চর্য মাছের রোল”।

জানা গেল @ কে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকে। তো এখন এর ইতিহাস একটু জানব।

@ এর ইতিহাসঃ 

সংকেতের জন্য ব্যবহৃত কোডে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যা যুক্ত হয়েছে তা হচ্ছে এই @। কীথ হিউস্টোন তার বিখ্যাত ব্লগ “শেডী ক্যারেক্টার্স” এ @ সম্পর্কে চমৎকার কাহিনী লিখেছেন। ই-মেইলের ব্যবহার করতে গিয়ে ১৯৭১ সালে এই প্রতীকটি প্রথম ব্যবহৃত হয়। 

২৯ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানী টোমলিনসন প্রথম এটির ব্যবহার করেছিলেন। রে নে নামক আরেক ব্যক্তি নিজের নতুন ই-মেইল সিস্টেমের জন্য এটি পছন্দ করেছিলেন। সে সময় আজকের মত ই-মেইল এত ব্যবহৃত হত না। 

রে টোমলিসনের কাছে প্রতীকটি চেয়েছিলেন। কিন্তু টোমলিসনের ভাব এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, সেই ভাবকে ১০ সেন্টের রুটি ২০ সেন্টে বিক্রি করার মত অবস্থা বলা হত। তাই তখন তাকে ইঙ্গিত করে বলা হত, বিশ রুটি @১০ সেন্ট।

যাইহোক, জানা যায় ১৫৩৬ সালে জিক্র প্রথম @ ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে এক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে লিখিত চিঠিতে মদের দাম লিখতে গিয়ে প্রতীকটি ব্যবহার করেছিলেন।

ইংরেজির এই প্রতীকটির মূল স্পেনিশ অথবা পর্তুগালের ভাষায় পাওয়া যায়। দুটো ভাষাতেই ওজনের তুলনা করতে এটি ব্যবহৃত হত। যে পাত্র দ্বারা ওজন নেয়া হত তার গায়ে এই প্রতীক লেখা থাকত। আর @ চিহ্নিত পাত্র মদ্য ব্যবসায়ের ইঙ্গিত বহন করত।

গ্রীস ও রোমান সাম্রাজ্যে এই পাত্রগুলো প্রচলিত ছিল। সেখান থেকেই প্রতীকটি ইংরেজিতে চলে আসে।

আজ আমরা এক চাপেই প্রতীকটি লিখে ই-মেইলের কাজ করে থাকি। ই-মেইল পৌঁছে যায় যথাযথ ঠিকানায়। কিন্তু জেনে অবাক হতে হয় যে, ভূমধ্যসাগরে প্রাপ্ত কোন এক মদের বোতল থেকে @ আজ সারাবিশ্বে রাজত্ব বিস্তার করেছে!


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

@, প্রতীক, অর্থ, কীথ-হিউস্টোন, তুলনা, ই-মেইল, মদের-বোতল