সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Loving Vincent.jpg

পেইন্টিং সিনেমা পৃথিবীর প্রথম পেইন্টিং সিনেমা; লাভিং ভিনসেন্ট

হাতে নির্মিত এই বায়োপিক পরিচালনা করছেন চিত্রশিল্পী ডোরোটা কোবিয়েলা এবং ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিউ ওয়েলচম্যান। এটি বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ হাতে আঁকা ফিচার ফিল্ম।

চলচ্চিত্র হচ্ছে একেরপর এক অসংখ্য স্থির চিত্রের একটা চলমান রূপ। আমরা যে ভিডিও বা মুভি দেখি তার সবই একেকটি ভিন্ন ভিন্ন ছবির ফ্রেম জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়। হলিউডের এনিমেটেড মুভি বা কার্টুন মুভিগুলোও বানানো হয় একই কায়দায়। 

কিন্তু এগুলো সবই এখন করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি (সিজিআই)। ফলে হাতে তৈরি নির্মাণ শিল্পের জায়গা এখন আর চলচ্চিত্রে নেই। 

একসময় এনিমেটেড মুভি তৈরি করা হতো কাগজ, পেন্সিল এবং ছবি আঁকার তুলি ব্যবহার করে। এসব হাতে আঁকা ছবির সাথে ব্যবহার করা হত অন্যান্য আরও ছবি এবং বস্তু। ১৯৩৭ সালে ডিজনী প্রথম তৈরি করে এই জাতীয় মুভি। এতে সময়, ধৈর্য এবং প্রতিভা প্রয়োজন হতো প্রচুর। কিন্তু এখন প্রত্যেক সপ্তাহেই আসছে কম্পিউটার নির্মিত ব্লকবাস্টার সব মুভি। হাতে আঁকা চলচ্চিত্রের কথা এখন কল্পনা করা যায় না।

পৃথিবীর এক অসাধারণ এবং একইসঙ্গে চিত্রকলার ইতিহাসে এক বিস্ময়সূচক নাম ভিনসেন্ট ভ্যান গগ! উনিশ শতকের শিল্পকলার এক আশ্চর্য পুরুষ। যার জীবন ও কর্ম ভরা নানান ধরনের কিংবদন্তিতে। চিত্রকলার এই অসাধারণ শিল্পীর রহস্যঘেরা জীবন মৃত্যু ও তার সৃষ্টি নিয়ে প্রথমবার নির্মাণ হল একটি পেইন্টিং সিনেমা। সিনেমার নাম ‘লাভিং ভিনসেন্ট’।

হাতে নির্মিত এই বায়োপিক পরিচালনা করছেন চিত্রশিল্পী ডোরোটা কোবিয়েলা এবং ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিউ ওয়েলচম্যান। এটি বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ হাতে আঁকা ফিচার ফিল্ম। এই চলচ্চিত্রে ভ্যান গগের জীবন এবং রহস্যময় মৃত্যুর তদন্ত করা হয়েছে। গল্পটি সাজানো হয়েছে ভ্যান গগের আঁকা ১২০টি পেইন্টিং এবং ৮০০ চিঠির উপর ভিত্তি করে।   

কোবিয়েলা ভাইকে লেখা শিল্পী ভ্যান গগের একটি চিঠি পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কোবিয়েলা ভয়েস অব আমেরিকায় বলেন, ‘ভ্যান গগ চিঠিতে লিখেছিলেন একজন চিত্র শিল্পী নাকি একমাত্র তার পেইন্টিংয়ের মাধ্যমেই কথা বলতে পারে। এই চিঠির লেখাগুলো আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই মুভিটি তৈরি করছি।’

প্রায় আশি মিনিটের অ্যানিমেশন সিনেমাটি ভ্যান গগের মৃত্যু রহস্য খুঁজে বের করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। ছবিটি নির্মাণ করতে একশো জনের বেশি প্রখ্যাত আঁকিয়েরা একসঙ্গে হয়েছিলেন। কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ৫৬ হাজারের বেশি পেইন্টিং ব্যবহার করা হয়েছে পুরো ছবিতে।

মুক্তির দিনক্ষণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, কে জানে আর কত সময় লাগবে!


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ভিনসেন্ট-ভ্যান-গগ, অ্যানিমেশন, হাতে-আঁকা, চলচিত্র