সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Child-Education-Financing-1024x853.jpg

শিক্ষকের পরামর্শ স্বপ্ন যদি হয় উচ্চ শিক্ষায় ঋদ্ধ হওয়া

একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, মানুষ খুব একা আর এ পৃথিবীতে প্রতিযোগিতা ছাড়া কিছু পাওয়া সম্ভব না এবং জীবনটা চেলেঞ্জিং।

জ্ঞানের পিপাসা মানুষের প্রতিনিয়ত। এর পথ ধরে একজন শিশু বিদ্যালয়ের সীমানা পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরই সে প্রকৃত পক্ষে জ্ঞানবিদ্যালয়ের সাথে পরিচিত হয় এবং বুঝতে পারে সে আসলে কিছুই জানে না এবং বিশাল জ্ঞানসমুদ্রের কয়েক ফোঁটা জলরাশি নিয়েই এতদিন সে কাটিয়েছে। 

তাই সে স্বপ্ন দেখে প্রথিতজশা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের, নোবেল বিজয়ীদের লেকচার শোনার এবং সর্বপরি নিজেকে ঋদ্ধ করতে। আজকের লিখাটি বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে। আশা করি তোমরা যারা স্নাতক শেষ বর্ষে/স্নাতকোত্তর আছ তাদের করনীয় ও দিকনির্দেশনায় কিছুটা পথ দেখাতে পারে এই লেখা। আর যারা সবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় মাত্র অথবা অল্পবিস্তর সময় কাটিয়েছো তাদের বিষয়টি অনুধাবনের জন্য। 

প্রথমেই বলে রাখি ইচ্ছা শক্তির উপরে কিছু নেই এবং যাবতীয় শুভকাজ গুলোর সাথে সৃষ্টিকর্তা সবসময় আছেন। আর বিদ্যার্জনের চেয়ে ভালো শুভকাজ যে আর একটিও নেই তা প্রতিটি ধর্মেই কোন না কোন ভাবে এসেছে। সুতরাং আগে কি হয়েছে তা না ভেবে এখন থেকে কাজ শুরু করতে হবে।

একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, মানুষ খুব একা আর এ পৃথিবীতে প্রতিযোগিতা ছাড়া কিছু পাওয়া সম্ভব না এবং জীবনটা চেলেঞ্জিং। এখানে ব্যর্থতার কোন স্থান নেই, যদিও ব্যর্থতা তোমাকে চলার পথের ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করবে আর ব্যর্থ না হওয়ার।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফল অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তার মানে এই নয় যে তুমি কিছুটা পিছিয়ে থাকলে আর সম্ভব না। চেষ্টা করবে অন্তত সিজিপিএ ৩.৫০ যাতে থাকে। কারণ একটা বর্ডার মার্ক তো থাকেই। তবে তুমি তোমার পিছিয়ে থাকা অবস্থানকে সামনে নিয়ে আসতে পারো কিছু কাজ করার মাধ্যমে। 

আমরা সবাই বাংলা মুভি থেকে বর্তমানে পাশ্চাত্যের মুভি দেখার প্রতি বেশি আকর্ষণ বোধ করি। এর কারণ কাহিনীচিত্র। আমি বলব এখন থেকে এই মুভিগুলো দেখার সময় সাব-টাইটেল সহ দেখবে আর প্রতিটি মুভি থেকে ২ টা নতুন শব্দ শিখবে, আর ইংলিশ পত্রিকা পড়বে। জাস্ট পড়ে যাবে, আমার পরামর্শ হল অভিধানের সাহায্য না নেওয়া। প্রতিদিন ১ টা পেজ পড়বে, যার যে পাতা ভালো লাগে। 

এভাবে ১ মাস পড়, দেখবে নিজের অজান্তেই তোমার মাথায় কিছু নতুন শব্দ ঢুকে গেছে এবং তুমি সেগুলোর অর্থ ধরতে পারছ। এখন তোমাকে যেটা করতে হবে সেটা হল মাথায় ঢোকা নতুন শব্দটা সব সময় মাথার মধ্যে রাখা যাবে না তাতে মরিচা পড়ে যেতে পারে, তাই প্রতিটি কাজে, কথা বলায়, লিখায় দুএকটি শব্দ ব্যবহার করতে হবে। একটা কাজ করতে পারো, প্রতিদিন ১০ লাইন লিখা যে আজকে কি ঘটনা ঘটল তোমার জীবনে, পরের দিন লিখলা কি ঘটল না, পরের দিন কি ঘটলে ভালো হতো ইত্যাদি। 

এতে যা হবে তা হচ্ছে তোমার শব্দভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ হবে এবং তুমি দেখতে পাবে IELTS এর চারটি শাখারঃ Listening (মুভি দেখার মাধ্যমে), Reading (পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে), Writing (১০ লাইন লিখার মাধ্যমে), Speaking (বলার মাধ্যমে) প্রতিটাটে তোমার দক্ষতা বেড়ে গেছে। 

এরপর বাজারে প্রচুর আইইএলটিএস এর বই আছে, সেগুলো নিয়ে চর্চা করা। একটা গ্রুপ থাকতে হবে তোমাদের যাতে শেয়ার করতে পারো। এটা মনে রাখবা, একা একা কোন জ্ঞানঅর্জন হয় না, হয় জ্ঞানচুরি। যদি প্রয়োজন মনে কর তাহলে কোন কোচিং এ ভর্তি হতে পারো যা তোমাকে ভালো দিক নির্দেশনা দিতে পারে। 

তবে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকলে বই পড়ে চর্চা করে আর Youtube lesson দেখেও অনেকে ভালো পয়েন্ট অর্জন করে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও অনেকে পেয়েছে। আইইএলটিএস এখন প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়েই কম-বেশি লাগে। তাই 6.5-7 একটা মোটামুটি ভালো পয়েন্ট। যা দিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করা যায়। তবে যাদের সিজিপিএ কম তারা আইইএলটিএসএ আরও বেশি পয়েন্ট তুলে তোমাদের অবস্থান এগিয়ে নিতে পারো। 

এরপর আসি GRE এর কথায়, USA তে পড়ার ইচ্ছে থাকলে GRE অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এবং GRE তে ভালো করলে তুমি অনেক এগিয়ে থাকবে। আর USA তে GRE এর উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করা যায়। আমাদের অনেকের ধারনা GRE মারাত্মক কঠিন, এটা মোটেও ঠিক না। 

কিছুটা কঠিন, কিন্তু বল খুব বেশি ভালো কিছু খেতে হলে তোমাকেই কষ্ট করে টেনে খেতে হবে, কেউ খাইয়ে দিবে না। আর সবসময় মনে রাখবা এর থেকে অনেক কঠিন কাজ তুমি সাফল্যের সাথে শেষ করেছ, সুতরাং এটাও পারবে। তোমাদের বিশ্বাস হবে কিনা জানি না, আমার কাছে প্রথম কোন শিশুর বর্ণমালার সাথে পরিচয় হওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে কঠিন, কারণ তারপরের সব ঘটনাতো ভিত্তির উপর রচিত হয়।

এ বিষয়গুলো শেষ হলে তারপর তোমাকে এক বিশাল ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। আর তা হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঙ্ক্ষিত গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক খুঁজে বের করা। এজন্য ওয়েবসাইট খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকে গবেষণা তত্তাবধায়ক এর প্রোফাইল ভালভাবে পড়ে তার কাজ সম্পর্কে ধারনা নিতে হবে। 

যদি তুমি সে বিষয়ে আগ্রহী হও তাহলে এ ধরনের কাজের কিছু আর্টিকেল পড়ে আরও জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং তারপর তাকে ই-মেইল করতে হবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে। এজন্য খুব সুন্দর একটা কাভার লেটার করতে হবে, যেটাতে তোমার পরিচয়, যোগ্যতা, আলাদা বিষয়, কাজের অভিজ্ঞতা, কেন তার সাথে কাজ করতে চাও, এর পরবর্তী বিষয় নিয়ে একটা স্নাপ-শট থাকবে। 

সাথে সাথে একটা MS-Excel শিটে সব তথ্য যেমন গবেষণা  তত্ত্বাবধায়কের নাম, ঠিকানা, ই-মেইল, মেইল করার তারিখ, রেসপন্স করছে কিনা এগুলা লিখে রাখতে হবে, কারণ বলা যায় না, একই গবেষণা তত্তাবধায়ককে ১ সপ্তাহে দুইবারও লিখে ফেলতে পারো, যদি লিস্ট না থাকে।  

কখনই মনে করবেনা যে সবাই তোমার মেইলের উত্তর দিবে, তাই অপেক্ষা করবে, কখনো লিখবে না যে তোমাকে মেইল করেছি অনেকদিন হল, কোন উত্তর পাই নাই। মনে রাখবা তারা খুব ব্যস্ত, এবং প্রয়োজন ছাড়া উত্তর দিবে না। এভাবে প্রতিদিন অন্তত ৫ টা সুন্দর করে মেইল কর। দেখবে কেউ বলবে তোমাকে পছন্দ হয়েছে, কিন্তু এখন স্কোপ নাই। 

তখন অবশ্যই তাকে রিপ্লাই দেবার জন্য ধন্যবাদ দিবে এবং ভদ্রভাবে বলবে কোন সুযোগ থাকলে পরবর্তীতে যেন জানায়। এভাবেও অনেকে গবেষণা তত্তাবধায়ক পেয়ে গেছে। কেউ যদি বলে যে ঠিক আছে তারপরই সে তোমার সিভি চাইবে। তাই একটা ভালো সিভি তৈরি করতে হবে। 

পরবর্তীতে তুমি স্কলারশিপের ব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গবেষণা তত্তাবধায়ক তোমাকে স্কলারশিপের দিক নির্দেশনা দিবে। তখন গবেষণা তত্তাবধায়কের নির্দেশ ও স্কলারশিপ নির্দেশিকা দেখে এপ্লাই করবে। এভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর একটা উপায় হল আমাদের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে অনেক স্কলারশিপের লিঙ্ক থাকে, সেগুলোতে এপ্লাই করা।

তাহলে সারমর্ম হচ্ছেঃ

১। মোটামুটি ভাল মানের সিজিপিএ।
২। IELTS and/or GRE। 
৩। গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের সম্মতি।
৪। সিভি (আর্টিকেল প্রকাশনা থাকলে ভালো) ও কাভার লেটার।
৫।স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি/বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও স্কলারশিপ প্রাপ্তি।
ফলাফলঃ একটি স্বপ্নের পূর্ণতা।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

উচ্চশিক্ষা, আইটিএলএস, সিজিপিএ, ভালো-ফলাফল, তত্ত্বাবধায়ক, সিভি