সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bangla_231576335.jpg

মাতৃভাষা বান্দার প্রতি আল্লাহর সেরা দান

বিশ্ব ব্রহ্মাণ্রডে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকাত হিসেবে ভূষিত হওয়ার পেছনে মানুষের যেসব বৈশিষ্ট্য, গুণাবলী ও যোগ্যতা রয়েছে তার মধ্যে ভাষা অন্যতম। মানুষের জন্মগত, স্বভাবজাত ও সর্বজনীন অধিকারগুলোর মধ্যেও মাতৃভাষার মাধ্যমে নিজের মতো করে কথা বলার অধিকার একটি।
মানুষের এ যোগ্যতা ও অধিকার আল্লাহ তায়ালাই মানুষকে দিয়েছেন। তাইতো মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেনঃ আর রহমান-দয়াময় আল্লাহ্। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনি তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাষা। (সূরা আর রহমানঃ আয়াত ১-৪)
জগৎজুড়ে বিচিত্র প্রকারে জীবিত প্রায় ৭হাজার ভাষা থাকলেও মাতৃভাষা প্রতিটি জাতি বা গোত্রের জন্য আল্লাহর সেরা নিয়ামত। কেননা মানুষ মাতৃভাষায় সুখ-দুঃখ, আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ-বিকাশে, মননে-মানসে অভ্যস্ত এবং সহজ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষ প্রথম তার মা, পরিবার, পরিবেশ, জাতি সর্বপরি পৃথিবীর অন্যান্য জাতির মানুষের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করতে পারে।
ভাষা-সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মেধা-মনন, প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও চিন্তাচেতনায় মানবজাতি যে গৌরবময় অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তার মুখে রয়েছে ¯স্রষ্টাপ্রদত্ত নানা প্রকারের মাতৃভাষা। ভাষা বৈচিত্র্যের এই অপরূপ সমাহার মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের অপরিসীম কুদরতও বটে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে। (সূরা আর-রূম: আয়াত-২১/২২) 
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মাতৃভাষা আরবি, সে সময় আরব ভাষাভাষী বিশ্বের বুকে ছিল অপ্রতুল, তথাপিও মাতৃভাষায় আরবীতে আল্লাহ কুরআন নাযিল করেন।
মাতৃভাষার প্রতি আল্লাহর স্বীকৃতির এ এক উৎকৃষ্ট উপমা। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, আমি(আল্লাহ) কুরআনকে আরবি ভাষায় নাজিল করেছি এজন্য যাতে তোমরা সহজে বুঝতে পারো। (সূরা ইউসুফ-২)
শুধু মহানবী(স:) এর উপরই মাতৃভাষায় আল্লাহর ঐশী বাণী অবতীর্ণ হয়নি, প্রত্যেক জাতীর জন্য নির্দিষ্ট নবী-রাসুলগণের ভাষা ছিল তাঁর অঞ্চলের মাতৃভাষা।
আর এই জন্যই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার জন্য। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন আর যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।(সূরা ইবরাহিমঃ আয়াত ৪)
সুতরাং দেখা গেল স্ব-স্ব জাতির মাতৃভাষা আল্লাহর নিকট থেকে বান্দার প্রতি এক শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা, আদব রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের জন্যই ইবাদত তুল্য। আর এ  শুকরিয়া আদায় করা, আদব রক্ষা তখনই যথাযথ হবে যখন মাতৃভাষার বিকৃতি রোধ করা যাবে।
আর রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আকাশ সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ বন্ধ করা। পাশাপাশি ভাষার অপপ্রয়োগ থেকে নিজেদেরকেও বিরত রাখতে হবে।
এফএম রেডিও আর টিভি উপস্থাপনায় বাংলা-ইংরেজির জগাখিচুরি রসায়নে তথা বাংলিশ বলা বন্ধ করতে হবে।
দেশের ভাষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদসহ সকলকেই ভাষার বিকৃতি রোধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র আল্লাহর দেয়া এক শ্রেষ্ঠ নিয়ামত মাতৃভাষা বাংলার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা হবে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

মাতৃভাষা, ধর্ম, ইসলাম, কোরআন