সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

tumblr_ntlix7lQy11uas1u6o1_1280.jpg

ইংরেজি সিনেমা ফরটি ফাইভ ইয়ার্স, অন্যরকম ভালোবাসার সিনেমা

মৃত সেই প্রেমিকা দুনিয়াতে না থেকেও যেন এই দুইজনের বাড়িতে হঠাৎ করেই আগমন করে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটা ইঞ্চিতে, যেই ইঞ্চিগুলোতে এতকাল ছিল প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর পরশ।

বয়স্ক এক দম্পতির সংসার। সংসারে বলতে গেলে শুধু দুইটা প্রাণী, দুইজনের টোনাটুনির (নাকি বুড়োবুড়ির?) সংসার। নিঃসন্তান এই দুইজন, ছেলেমেয়ের ঝামেলার বা ভালোবাসার কোন আক্ষেপ নেই। নিজেদের ভালোবেসেই সুখী তারা। তার প্রমাণ হিসেবে এক সপ্তাহ পর নিজেদের বিয়ের ৪৫ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছেন। চারদিকে সাজ সাজ রব, দুই বুড়োবুড়ির মনের ভেতর সুখের আমেজ। ঠিক তখনই!

বাসায় একটি চিঠি আসল। চিঠি খুলে যেটা জানা গেল সেটা একই সাথে অবিশ্বাস্য ও মেনে নেয়া দুরূহ। স্বামীর একজন প্রাক্তন প্রেমিকা ছিলেন, যিনি বহু বছর আগে মারা যান বরফের পাহাড়ে। এত বছর পর সেই পাহাড় থেকে সেই প্রেমিকার লাশ মোটামুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে।
এই খবরের পর থেকেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়।

স্বামী তার প্রাক্তন প্রেমিকার স্মৃতিচারণ করতে শুরু করেন বর্তমান স্ত্রীর সামনেই। মৃত সেই প্রেমিকা দুনিয়াতে না থেকেও যেন এই দুইজনের বাড়িতে হঠাৎ করেই আগমন করে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটা ইঞ্চিতে, যেই ইঞ্চিগুলোতে এতকাল ছিল প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর পরশ। ভালোবাসার সেই পরশে ঈর্ষার আগুনের হালকা ফুলকি লাগে। এতকালের মজবুত সম্পর্কের সুতায় হঠাৎ কোথায় যেন একটা টান পড়ে।

চোখের সামনে স্বামীকে আস্তে আস্তে বদলে যেতে দেখেন স্ত্রী। ঘুরে ফিরে প্রতিটা কথার টপিক এসে থামে সেই প্রাক্তন মৃত প্রেমিকার কথায়। সামনের সপ্তাহে যেই মানুষটার ৪৫ তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন হওয়ার কথা, সেই মানুষটা যদি এখন শুধু আগের প্রেমিকার কথা বলে, তাহলে সেটা স্ত্রী হয়ে কতক্ষণ সহ্য করা যায়?

স্ত্রী বেচারা কি করবেন ভেবে পাননা। বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে স্বামীর জন্য একটা হাতঘড়ি কিনবেন বলে ঠিক করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দোকানে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হন। যেই মানুষটার জন্য তিনি সময়নির্দেশক কিনতে চাচ্ছেন, সেই মানুষটার কি এখন আর আগের মত সময় আছে নিজের স্ত্রীর জন্য? নাকি সেই সময় পুরোটাই এখন প্রাক্তন মৃত প্রেমিকার কব্জায়?

স্বামী একদিন বাইরে গেলে স্ত্রী আঁতিপাঁতি করে ঘরে খুঁজতে শুরু করেন প্রাক্তন প্রেমিকার কোন স্মৃতি তার মিনশে এখনও জমিয়ে রেখেছেন কিনা আর সেটা দেখে গোপনে তিনি স্মৃতিকাতর হন কিনা। অবশেষে তিনি যা খুঁজে পেলেন, সেটা তার জন্য ছিল অবিশ্বাস্য!

সিনেমাটা মাস্টারপিস বা দেখতেই হবে, এটা বলব না। তবে আমার কাছে কেন জানি অদ্ভুত রকমের ভাল লেগেছে। একটু স্লো ধাঁচের ড্রামা, সবার হয়ত পোষাবে না, তবে আমার বেশ পুষিয়েছে দেড় ঘণ্টার এই সিনেমা। সম্পর্কের অনেক কিছু নতুন করে হয়ত শিখতে হতে পারে আপনার।

৪৫ বছর সংসার করার পরেও আমরা একজন আরেকজনকে আসলে কতটা চিনতে পারি বা আমাদের মাঝে আসলেই ভালোবাসা আছে কিনা বা সেই ভালোবাসার শক্তি কি ৪৫ বছর আগের ভালোবাসার মানুষকে ভুলিয়ে দিতে পারে কিনা - এরকম অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাবে। স্ত্রী চরিত্রে Charlotte Rampling এর অভিনয় ছিলো অসাধারণ!

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

45-years, ফরটি-ফাইভ-ইয়ার্স, ভালোবাসার, সিনেমা, Charlotte-Rampling