সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

George-Mallory-Evarest.jpg

মাউন্ট এভারেস্ট জর্জ ম্যালোরি; বিস্মৃত এক পর্বতারোহী

কিছু মানুষ মনে করেন যে তাঁরা চূড়ায় উঠেছিলেন এবং নিচে নেমে আসার সময় মারা যান। আবার কিছু মানুষ মনে করেন যে তাঁরা চূড়ায় পৌঁছতেই পারেননি। তার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা চূড়াতে উঠতে পেরেছিলেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তর এক অমীমাংসিত রহস্য হয়েই আছে এখনও।

১৯৫৩ সালের ২৯ মে।

নেপালের স্থানীয় সময় ১১.৩০ মিনিটে এভারেস্টে উঠে এলেন এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে। প্রথমবারের মতো মানুষের পদানত হল পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

অথচ এই ইতিহাস রচিত হতে পারতো আরও প্রায় ৩০ বছর আগেই। জর্জ ম্যালোরি নামের একজন যে বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করার জন্য।

কে এই জর্জ ম্যালোরি? পুরো নাম জর্জ হারবার্ট লেই ম্যালোরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ আর্মির আর্টিলারি ইউনিটে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দারুণ সুদর্শন এই মানুষটির রক্তেই ছিল অভিযানের নেশা। এভারেস্ট জয়ে পরিচালিত ব্রিটিশদের প্রথম তিনটি অভিযানের প্রত্যেকটিতেই সদস্য হিসেবে ছিলেন তিনি।

প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ১৯২১ সালে। এটি ছিল মূলত রেকি অভিযান। দীর্ঘ ৫ মাস ধরে এভারেস্টে ওঠার পথ খোঁজা হয় এই অভিযানে। এই রেকি অভিযানেও ম্যালোরি তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে এভারেস্টের ২৩ হাজার ফুট পর্যন্ত পৌঁছে যান।

পরের অভিযান পরিচালিত হয় ১৯২২ সালে। অনেক দিক থেকেই এটি ছিল প্রথম। এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এটিকেই প্রথম ফুল স্কেল অভিযান বলে মনে করা হয়ে থাকে। রেকি অভিযানে যে পথ খুঁজে বের করা হয়েছিল, সেই পথে ম্যালোরি এবং তাঁর দল ২৬৮০০ ফুট পর্যন্ত উঠে যান। এই অভিযানে প্রথম অক্সিজেন টিউব ব্যবহার করা হয়। এই অভিযানেই চূড়া বিজয়ের তৃতীয়বারের চেষ্টায় ম্যালোরি এবং তাঁর দল তুষারধ্বসের কবলে পড়েন যার ফলে ৭ জন শেরপা মারা যায় যেটি কিনা এভারেস্ট ইতিহাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

ম্যালোরির তৃতীয় এবং শেষ অভিযান পরিচালিত হয় ১৯২৪ সালে। এই অভিযানে ২৬৯০০ ফুট উপরে অবস্থিত হাই ক্যাম্প ৬ থেকে ম্যালোরি এবং তাঁর পার্টনার আরভিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ক্যামেরা নিয়ে চূড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তাঁরা আর কখনও ফিরে আসেননি। তাঁরা কি চূড়ায় উঠতে পেরেছিলেন? কিছু মানুষ মনে করেন যে তাঁরা চূড়ায় উঠেছিলেন এবং নিচে নেমে আসার সময় মারা যান। আবার কিছু মানুষ মনে করেন যে তাঁরা চূড়ায় পৌঁছতেই পারেননি। তার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা চূড়াতে উঠতে পেরেছিলেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তর এক অমীমাংসিত রহস্য হয়েই আছে এখনও।

ম্যালোরি-আরভিনের অন্তর্ধানের প্রায় ৭৫ বছর পরে ১৯৯৯ সালে কনরাড এনকার নামে এক পর্বতারোহী প্রায় ২৬০০০ ফুট উঁচুতে ম্যালোরির দেহ খুজে পান। এর ফলে প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী কে তা নিয়ে বিতর্ক আবারও উস্কে ওঠে। হিলারি-তেনজিং কে সরিয়ে প্রথম এভারেস্ট বিজয়ীর দাবীদার হয়ে যান ম্যালোরি-আরভিন। এ ধারণা আরও পাকাপোক্ত হয় যখন কনরাডের এভারেস্ট জয়ে। সম্পূর্ণ ম্যালোরির উপায়ে এবং ম্যালোরির দেখানো পথে শুরু করে কনরাড এভারেস্ট বিজয়ে সক্ষম হন। কিন্তু যেহেতু কোন প্রমাণ নেই, হিলারি-তেনজিং কেই প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী বলে মেনে নিয়েছে পৃথিবী।

তবে একটা ব্যাপার নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে ম্যালোরি-আরভিন এভারেস্টের ২৮ হাজার ফুট পর্যন্ত উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। আরভিনের ক্যামেরাটা এখনও খোঁজা হচ্ছে যা পেলে হয়ত অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

শেষ করা যাক, ম্যালোরির একটা অমর উক্তি দিয়ে। এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, Why you want to climb Mount Everest?

ম্যালোরির উত্তর ছিল, Because it is there.


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

জর্জ-ম্যালোরি, পর্বতারোহী, মাউন্ট-এভারেস্ট, নেপাল, পর্বতশৃঙ্গ, তুষারধ্বস, অক্সিজেন, পৃথিবীর-সর্বোচ্চ-শৃঙ্গ, এডমন্ড-হিলারি, তেনজিং-নোরগে, ইতিহাস